শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৩ পূর্বাহ্ন

বিশেষ বিজ্ঞপ্তি
জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন বাগেরহাট জেলা কমিটির পক্ষ থেকে সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা
সংবাদ শিরোনাম :
বিএনপি’র নেতার হামলায় মা ও ছেলে মারাত্মক জখম বাগেরহাটে শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা খেলার সরঞ্জাম বিতরণ রাজনগরে চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ শাহিনুর রহমান পলাশের মোটরসাইকেল গণসংযোগ রামপালে দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত ৩ বছরের জোবায়ের, চিকিৎসায় প্রয়োজন ৩ লাখ টাকা রামপালে জমি দখল চেষ্টা ও মামলা করে হায়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন জাতীয় ইমাম ও খতিব সংস্থার মতবিনিময় সভাকে ঘিরে জেলা আহ্বায়ক প্রিন্সিপাল মাওলানা মাহফুজুর রহমানের ব্যাপক প্রস্তুতি ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে নববী আদর্শ বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। বাগেরহাটের মতবিনিময় সভায় বক্তারা রাখালগাছির কৃতি সন্তান হাবিব জেলা ছাত্রদলের সিনি: যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জলবায়ু বিপর্যয়ের ঝুকি মোকাবেলায় উপকূলীয় অঞ্চলকে সুরক্ষিত রাখতে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক হলেন বাগেরহাটের কৃতি সন্তান রবি
ক্ষমা চেয়ে স্ত্রীর লাশ নিয়ে যাওয়া মুক্তিযোদ্ধার জামিন

ক্ষমা চেয়ে স্ত্রীর লাশ নিয়ে যাওয়া মুক্তিযোদ্ধার জামিন

চুলকাঠি ডেস্ক : জামিন পেলেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের লাঞ্ছনার শিকার মুক্তিযোদ্ধা ইসাহাক আলী ও তার ছেলে রাকিবুল ইসলাম।

রোববার (০৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন চান তারা। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক সাইফুল ইসলাম পুলিশের প্রতিবেদন দাখিল না হওয়া পর্যন্ত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। আদালত থেকে বেরিয়ে এসে রাকিবুল ইসলাম জাগো নিউজকে এসব তথ্য জানান।

মুক্তিযোদ্ধা ইসাহাক আলী চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। পরিবার নিয়ে রাজশাহী নগরীর টিকাপাড়া এলাকায় বসবাস করেন অবসরপ্রাপ্ত এই পুলিশ সদস্য। তার ছেলে রাকিবুল ইসলাম চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত।

২ সেপ্টেম্বর রামেক হাসপাতালে মুক্তিযোদ্ধা ইসাহাক আলীর স্ত্রী পারুল বেগম (৬৫) বিনা চিকিৎসায় মারা যান। মায়ের মৃত্যুতে প্রতিবাদ করেন ছেলে রাকিবুল ইসলাম। এ সময় শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা একজোট হয়ে মুক্তিযোদ্ধা ইসাহাক আলী ও তার ছেলে রাকিবুল ইসলামকে দফায় দফায় মারধর করেন। তাদের হাত থেকে রেহাই পাননি রাকিবুলের স্ত্রী-স্বজন এমনকি সঙ্গে থাকা সহকর্মীও।

এরপর মরদেহ আটকে রেখে প্রকাশ্যে বাবা-ছেলেকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেন চিকিৎসকরা। শেষে রাকিবুলকে তুলে দেন পুলিশের হাতে। পরে ক্ষমা চেয়ে স্ত্রীর লাশ নিয়ে যান মুক্তিযোদ্ধা ইসাহাক আলী।

এ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুক্তার হোসেন। চিকিৎসকদের এই অপকর্ম সামনে আসায় ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুক্তার হোসেনের দায়ের করা মামলায় ওই দিনই রাকিবুলকে নেয়া হয় আদালতে। ওই দিনই তিনদিনের অন্তবর্তীকালীন জামিনে বেরিয়ে এসে মায়ের মরদেহ দাফন করেন রাকিবুল। সরকারি কাজে বাধা দেয়ার ওই মামলায় রাকিবুলের সঙ্গে তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ইসাহাক আলীকেও আসামি করা হয়।

ন্যক্কারজনক এই ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি কমিটি করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে এই তদন্ত কমিটি প্রত্যাখ্যান করেন রাজশাহীর মুক্তিযোদ্ধারা।

একই সঙ্গে অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে শনিবার থেকে আন্দলনে নেমেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। হাসপাতালে মুক্তিযোদ্ধাকে মারধরের প্রতিবাদে রাজশাহী জেলা ও মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মানববন্ধন করে দোষীদের বিচার দাবি করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি, হামলার সুষ্ঠু বিচার না হলে মুক্তিযোদ্ধারা শরীরে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করবেন। আগুন জ্বলবে পুরো রাজশাহীতে। ওই মানববন্ধনের পরই থানায় গিয়ে মামলা করেন মুক্তিযোদ্ধা ইসাহাক আলী।

পাশাপাশি রোববার রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে আন্দোলনে নামে রাজশাহীবাসী। দোষীদের বিচার এবং রামেক হাসপাতালে চিকিৎসার পরিবেশ ফেরাতে সাতদিনের আলটিমেটাম দেয়া হয়।

শনিবার দুপুরে মুক্তিযোদ্ধা ইসাহাক আলী বাদী হয়ে রামেক হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুক্তার হোসেন, শিক্ষানবিশ চিকিৎসক শোভন ও আবদুর রহিমকে আসামি করে নগরীর রাজপাড়া থানায় মামলা করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এবং মুক্তিযোদ্ধা ইসাহাক আলীর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত হয়েছেন রাজপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানা।

নিউজটি শেয়ার করুন আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায়..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২০ – ২০২৫, www.chulkati24.com

কারিগরি সহায়তায়ঃ-SB Computers